paddy rice

বাজারে আসছে নতুন প্রজাতির ধান, সুকুমার। বিদায় নিচ্ছে মিনিকিট।

বাজারে আসছে নতুন প্রজাতির ধান, সুকুমার।

সবুজ বিপ্লব এর হাত ধরে বাজারে  এসেছে নিত্যনতুন হাইব্রিড প্রজাতির ধান। আবার হারিয়েও গেছে রাধা তিলক, তুলসী মঞ্জরী, কনকচুড়র মত প্রজাতি। এবার বিদায় নেবার পালা ‘শতাব্দী’র। মধ্যবিত্ত বাঙালির রান্নাঘরে তার পরিচিতি ‘মিনিকিট’ নামে। প্রায় ৩০ বছর ধরে কৃষকের সঙ্গে ‘শতাব্দীর’ বিরল আত্মীয়তা। সব পরিবারের সুখ দুঃখের ভাগীদার ছিল শতাব্দী। কিন্তু কালের নিয়মে তাকেও বিদায় নিতে হচ্ছে। তাই শতাব্দীর বিকল্প হিসেবে আসছে ‘ সুকুমার ‘। একেবারে নতুন প্রজাতির হাইব্রিড ধান।

কিন্তু কতটা উন্নততর এই ধান?  প্রায় ৩০ বছর ধরে কৃষি – খামারের সঙ্গে যুক্ত মিনিকিট। আসলে শতাব্দী ধান থেকে উৎপাদিত চাল হলো মিনিকিট। কিন্তু সুকুমার , মিনিকিট চালের থেকে বড়,সরু ,হালকা সুগন্ধিও রয়েছে। মাজরা সহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণ নিজেই প্রতিহত করতে পারে।
 

২০১৭ সালে সুকুমার আবিষ্কার এর সাফল্য পান চুঁচুড়া ধান্য গবেষণাগারের গবেষকরা। কিন্তু রাজ্যে চাষের অনুমোদন পেলেও দরকার ছিল সর্বভারতীয় স্বীকৃতির।  অবশেষে গত জুলাই মাসে চুঁচুড়া ধান্য গবেষণাগারের কাছে এসে পৌঁছয় ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (ICAR) এর স্বীকৃতির সংসাপত্র। গবেষক বিজন অধিকারী বলেন, ” এই ধানের নাম রেখেছিলাম রাজ্যের ধান গবেষণার পথিকৃৎ বিজ্ঞানী প্রয়াত সুকুমার মল্লিক এর নামে।সেই ধানের সর্বভারতীয় স্বীকৃতি পাওয়া বড় আনন্দের।” 

ICAR ‘ শতাব্দী ‘ র বীজ কে ১০ বছরের জন্য চাষের স্বীকৃতি দেয়।সেই হিসাবে অনেক বছর আগেই মেয়াদ ফুরিয়েছে ‘শতাব্দীর’ বা ‘মিনিকিট’ এর। সেই কারণেই শতাব্দীর চেয়ে আরো উচ্চ ফলনশীল ও উন্নতমানের বীজ তৈরির দরকার পড়ে। আর এভাবেই জন্ম হয়  ‘ সুকুমার ‘।

২০১৭ সালে চুঁচুড়া ধান্য গবেষণাগারে র জমিতে প্রথম চাষ হয় ‘ সুকুমার ‘ ধানের। মেলে অসাধারণ সাফল্য। আউশ, আমন, বোরো, তিন মরশুমে ফলনশীল। গবেষক রা বলছেন বোরো মরশুমে হেক্টর প্রতি ছ’ টনের বেশি ফলন দিতে সক্ষম ‘সুকুমার’। দীর্ঘ দু বছরের লড়াইয়ের পর গত ১০ ই জুলাই স্বীকৃতি পেলো ‘সুকুমার’। সূচনা হলো নতুন এক অধ্যায়। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *